
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ মোড় থেকে অবরোধ তুলে নেন জুলাই ঐক্যের নেতাকর্মীরা। জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা সরে গেলে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার পর থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশি হামলা ও ভারতীয় ষড়যন্ত্রের অভিযোগের প্রতিবাদে শাহবাগে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। তাদের হাতে জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থানের পরই তারা সড়ক ছেড়ে দেন।
শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র সামনে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে তারা রাতভর সেখানে অবস্থান করেন।
শুক্রবার দুপুরের পর একই দাবিতে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এতে ডাকসু নেত্রী ফাতেম তাসনিম জুমা, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আন্দোলনকারীদের একাংশ শাহবাগ থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। এতে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কয়েক ঘণ্টা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর শুক্রবার রাতে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে ইনকিলাব মঞ্চ। ডাকসু নেতাদের আহ্বান ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বিবেচনায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা শাহবাগ ত্যাগ করে। এরপর থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এ মোড়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।