
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের ভোটাধিকার একসময় কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, আর সেই অধিকার ফিরিয়ে আনতে অনেকেই জীবন দিয়েছেন। গুম ও হত্যার শিকার পরিবারগুলোর ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, আসন্ন নির্বাচনই প্রমাণ করবে প্রকৃতপক্ষে কারা জনগণের পাশে থাকে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার সাঁতারকুলে সানভ্যালি মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেনি এবং পুরো প্রক্রিয়াকে নাটকীয়তায় পরিণত করা হয়েছিল। তবে এবার জনগণ ঐক্যবদ্ধ এবং তারা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বড় বড় প্রকল্পের আড়ালে দুর্নীতি বেড়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। দীর্ঘ সময়েও মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু ভোট দিলেই হবে না, যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিতে হবে। জনগণের পাশে থাকার মানসিকতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার দাবি, সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও দেশ পরিচালনার সক্ষমতা বিএনপিরই রয়েছে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বেকারত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের কারণেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব তরুণ সমাজের ওপর পড়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানে কাজ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের সুফল মানুষের ঘরে পৌঁছাতে হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন অপরিহার্য। সরকার গঠনের পর থেকেই নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সবার জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
বাড্ডা ও সাঁতারকুল এলাকার স্থানীয় সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।